Skip to content

ভাবছি গরুর ব্যবসা করব

বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যবসা বানিজ্যে দেখা দিছে মন্দা। রমজান মাস থেকে এই অবস্থা। রোজায় কাপড় আর মুদি দোকান এমনিতেই ভালো চলে বাকিরা ভাবছিলো ঈদের পর নতুন কাজকাম শুরু হইলে জিনিসপত্তর বাজার থেকে টানবো কিন্তু হইতেছে না। নির্বাচনী বছর বলে হরতাল বা সরকারের কট্টর অবস্থানের ঘানি ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে পড়ছে। স্থিতিশীলতা ছাড়া এই অবস্থা কাটবার নয়।

গত কোরবানির ঈদে গরুর রেটে যে ধ্বস নামছিলো গরু ব্যবসায়ীদের ভাষায় সেটা পনের বিশ বছরের হিষ্টোরিতে ঘটেনাই। কারো ভাষ্য হাসিনা ইন্ডিয়ার বর্ডার খুলে দিছে এছাড়া পত্রিকায় আসছে পাহাড়ের উপর থেকে গরু ছেড়ে দিছে এপারে গড়ায়া পড়ছিলো। তারা বলে হাসিনা বর্ডার খুলে তাদের লস করাইছে তাই এবার লীগরে ভোট দিবোনা।

আশেপাশে রংবেরঙের মানুষ একদিন একজন নিয়ে গেল ডেসটিনির অফিসে। পাশের বড় রুমে মিটিং হইতেছিল,বস টাইপ কেউ বক্তৃতা দিচ্ছিলো,বাকিরা তার কথার ফাঁকে ফাঁকে ইয়েস! ইয়েস! ইয়েস! বলে চিৎকার করছিলো। এদিকে ডান হাত,বাম হাত,সার্কেল ইত্যাদি লেকচারের পর ছোট বস বলল এবার এই কাগজে সাইন করেন।

গরু কিনতে যেতে হবে দিনাজপুর। যাব গরু ব্যবসায়ী পার্টির সাথে। কথা বলে বিস্তারিত জানলাম সেখানে কোনদিন ঘাসের উপর চাঁটাই পেতে অন্যদিন কারো কাচারিতে থাকতে হবে। মশার কামড় খেয়ে চেহারা-সুরত পরিবর্তনের সম্ভাবনাও আছে। পাবলিক টয়লেট তো নাই এমনকি তিন চাকা ল্যাট্রিন গুলাও অল্প কয়টা বাড়িতে দেখা গেছে। (উত্তর বঙ্গের মানুষ এখনো খোলা জায়গা,ঝোপ-জঙ্গলে প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদন করে?)।

সিজনাল ব্যবসায় লাভ লস আছে,গতবার ফেল খাইছে বলে এবারও মারবে এমন ধারণার অবকাশ নাই। দেশ শাহবাগ বা হাটহাজারী নয়। গতকাল বা পরকাল বেঁচে খাওয়ার যোগ্যতা নেই বলে দল-শতদল না ঘুমিয়ে কাঁটাতে হবে এক সপ্তাহ। দোয়াগো…

ফার্স্ট চান্স

এ দোকান থেকে ও দোকান। এক দোকানের হেল্পার এসে পরোটা ডালের অর্ডার দিয়ে যায়। এ দোকানের হেল্পার স্টিলের একটা ট্রেতে কয়েক মিটার হেটে খাদ্য পৌঁছে দিয়ে যায়। মাঝখানে সিএনজি রিক্সা যাচ্ছে মিনিটে মিনিটে,আরও কিছুক্ষন পর বাস। কারো হাঁচির কণা বা একটু বৃষ্টির ফোঁটা চায়ের কাপে জমা হচ্ছে। আমি দাঁড়িয়ে দেখছি। বামে একটা চা দোকান। যেখানে কয়েকদিন আগে দিন-সারাদিন চলত ‘উল্লালা আই লাভ্যু মাই সোনিয়ে’ সেখানে এখন চলছে তোফাজ্জল হোসেন ভৈরবীর ওয়াজ…’আমার নবী ব্যথায় ব্যথিত হইয়া,মাথা চক্কর খাইয়া উহুদের জমিনে পড়ে গেলে,তারপরও নবীজিকে মারতেছিলো দুনিয়া থেকে বিদায় করে দেওয়ার জন্য। এম্নি সময় হযরতে জিব্রাইল এইভাবে দুইটা হাত বাড়াইয়া আমার আপনার নবীকে কোলে উঠাইছে। তাদের সাম্নে থেকে টান দিয়া সরায়া নিয়া আসছে। উহুদ পাহাড়ের মাঝামাঝি নিচ থেকে দেখা যায় না,এমন একটা জাগায় নিয়ে জিব্রাইল নবীরে কোলে নিয়ে ডাক্তেছে… …জিব্রাইল বলেন এই বলে ডাক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখি লম্বা একটা পাথর ফাইটা তুলার মত নরম বিচানা হইয়া যায়’

ডানে একটা পুরোনো জরাকীর্ণ একটা দোকান। সব দোকান ইট সিমেন্টের চুনকাম করে সামনে সাটার লাগালেও এটাতে ত্রিশ-চল্লিশ বছর আগের ছোট খোপওয়ালা কাঠের দরজা দেখা যাচ্ছে।

অর্শ চিকিৎসালয়।
ডাঃ রইছুদ্দিন (হোমিও প্যাথ)
শিশু,স্ত্রী-পুরুষ,চর্ম,যৌন রোগ,হাঁপানী,অর্শ-ভগন্দর,পিশারী,নাক,কান,গলা সহ সকল প্রকার নতুন ও পুরাতন রোগের চিকিৎসা করা হয়।
বিনা অস্ত্রে চুক্তির মাধ্যমে অর্শ-ভগন্দর ও ফিসারী রোগের চিকিৎসা করা হয়।

স্লামুয়ালাইকুম। সাদা দাড়িওয়ালা বৃদ্ধ ইশারায় সালাম নিয়ে একটা ছেলেকে কি কি ঔষধ বুঝিয়ে দিতে লাগলেন। একটুপর উঠে ভেতরে গিয়ে কয়েকটা বোতল নিয়ে আসলেন। খালি কয়েকটা বোতলে ঔষধি তরল পদার্থ মিশাতে লাগলেন। শেষে ছেলেকে বললেন তিনশত পঞ্চাশ টাকা। ছেলেটি টাকা দিলে বৃদ্ধ টাকা ড্রয়ারে রেখে ভেতরে চলে গেল কৌটাগুলো রাখতে। ছেলেটি চলে যাচ্ছে এমন সময় আমি জিজ্ঞেস করলাম তুমি কি রোগের ঔষধ নিলে। ছেলেটি বলছি বা একটু পরে বলব শ্রেণীর ইঙ্গিত দিয়ে চলে গেল। বৃদ্ধ ভেতর থেকে আসছে এমন সময় দেখলাম পর্দার আড়ালে দুইজন মহিলা বসে আছে।

আপনার কি সমস্যা?
দুর্বল কন্ঠে বললাম,আচ্ছা হুজুর আমি পায়ের একটা আঙ্গুলে ব্যাথা। এই ঔষধ খেলে কাজ হবে কিনা?
হবেনা কেন? ভাঙ্গা আঙ্গুল জোড়া লাগায়া দিব। কিভাবে ভাঙ্গছে?
হুজুর আঙ্গুল ভাঙ্গে নাই। ফুটবল খেলতে গিয়ে শুধু ব্যাথা পাইসি। ছয় মাস আগে এখনো ফোলা কমেনি।
এদ্দিন কই আছিলেন? আঙ্গুল দেখি

বৃদ্ধ আবার ভেতরে গিয়ে তরলপূর্ণ একটা বোতল নিয়ে আসলেন। আরেকটা ছোট খালি কৌটায় তরল পদার্থ ঢেলে পূর্ণ করলেন। একটা পাইপারে কিছুটা তরল নিয়ে বললেন হাঁ করতে বললেন। আমি হাঁ করলে অর্ধেকপূর্ণ করে পাইপারের তরল আমার মুখে ঢেলে দিলেন। ঝাঁঝালো স্বাদ। মনে হয় ইস্পিরিটের মত।

ইফতারের পর থেকে সেহরির আগে চাইর বার খাইবেন।
হুজুর তরল দিলেন! সাদা গোঁটা গোঁটা ওইগুলা নাই?
আপনারে দিছি ফুলা কমার ফাইল। না লাগলে গোঁটা দিমু ক্যান?

আশি টাকা দেন।

পকেট থেকে একটা একশত টাকার নোট বের করে দিলাম। তিনি বিশ টাকা ফেরত দিলেন। এতক্ষন বুড়ার সাথে কথা বলছি ফাঁকে ফাঁকে বাম পাশের একটা তাঁকে কাতারে কাতারে সাজানো পুরোনো বইগুলা দেখছিলাম। দোকানের বাইরে থেকে বইগুলার উপর চোখ পড়ছিলো। এজন্যই ভিতরে আসা। যদি রোগের জন্য আসতাম এই শিশিটা বিশ টাকায়ও নিতাম না। এখন উদ্দেশ্য ভিন্ন।

আচ্ছা হুজুর আমি যদি আপনার হোমিওপ্যাথি শিখতে চাই কিভাবে শিখতে হবে?
কিভাবে শিখবেন আবার? পড়ালেখা করে শিখবেন।
মানে আপনি কি শিখান নাকি অন্য কোথাও কোর্স করতে হবে?
আমিও শিখাইতে পারি। আইচ্ছা আপনে অবসর সময়ে আইসেন। কথা হবে।
আচ্ছা ঠিক আছে। স্লামুয়ালাইকুম।

ভেতর থেকে একটা বোরকাওয়ালী মহিলা উঁকি দিল। হুজুর সালামের উত্তর দিল কিনা শুনিনি,উল্টো ফিরে রাস্তার দিকে হাঁটা দিলাম।

ব্যথা পেলে খবর দিও

হাত কেটে রক্ত পড়ে
দরজার কোনায় নখ উল্টে যায়
তোমরা ব্যথা পাও
টিটেনাস ইঞ্জেকশান দেয়া হয়
সূঁচের লক্ষ্যভেদের যন্ত্রনায় কুঁকড়ে উঠো
ততটুকু কষ্ট যতটুকু ভয়
তোমরা ব্যথা পেলে আমাকে খবর দিও
আমি শুনব না,সান্ত্বনা দিতে পারব না
তোমরা ব্যথা পেলে আমিও ব্যথা পাই
তোমাদের কষ্টে আমিও কষ্ট পাই
ব্যথা পেলে কষ্ট পেলে আমাকে জানিও
আমি ব্যথা পেয়ে কষ্ট পেয়ে তোমাদের সঙ্গী হব
আমি সান্ত্বনা দিতে পারব না
আমার সহানুভূতি তোমাদের কষ্ট লাগব করবে না
আমি শুধু কষ্ট পেতে চাই
তোমাদের সঙ্গী হতে চাই
তাই খবর দিও

ভ্রমন পরিকল্পনা ২০১৩

টার্গেটেড প্লেসঃ

 

কক্সবাজারঃ এর আগে একবার কক্সবাজার গিয়েছিলাম কোন সাল মনে নাই। তখন খুবই ছোট ছিলাম। যাওয়ার সময় প্লেনে করে গিয়েছিলাম। পরে প্লেনের টিকেটটা হাফপ্যান্টের পকেটে নিয়ে ঘুরতাম,স্কুলে বন্ধুদের দেখাইতাম। একদিন হাফপ্যান্ট পরে পানিতে নেমে দেখি আরও কি কি আমার তখনকার সময়ের অতি জরুরী(যার বেশিরভাগই গৃহের উপার্জনক্ষম পুরুষের শার্টের ভিতরের পকেট থেকে মেরে দেয়া) কাগজপত্রের সাথে ভিজে একাকার। কক্সবাজার থেকে আসার সময় বাসে আসছিলাম। বাসে কক্সবাজারে কেনা একটা নতুন গ্লাস আমি ভেঙে ফেলসিলাম এট্টুক মনে আছে বা এখনো গল্পের আসর বসালে শোনা যাবে। যেখানে সহযাত্রীরা বছরে অন্তত একবার কক্সবাজার যায় সেখানে আমি এত বছরে একবারও যেতে পারিনাই কেন সেটা প্রহেলিকা।

 

লোকমুখে শোনাঃ

 

i. ৪ মার্চ ২০১০ তারিখে একজন(শিবিরকর্মী) বলছিলো কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি মজা বান্ধবী নিয়ে গেলে। এর কয়দিন আগে তিনি কয়েকজন বন্ধুসহ কক্সবাজার ঘুরে আসছিলেন। তিনি মুখে কক্সবাজারের বর্নণা দিতেছিলেন। কথার মাঝে তিনি সেই নারী সম্পর্কীয় মজাতেই ফিরে আসছিলেন বার বার। আমিও তার পুঙ্খানুপুঙ্খ মজার বিবরণ শুনতে লাগলাম।

 

ii. ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে একজন(লীগার) বলছে কক্সবাজারে একটা বেলুন আছে যা দড়ি দিয়ে বাঁধা।

 

ভ্রমনসঙ্গীঃ

 

এক যাব না। হয়ত অভিজ্ঞ কারো সাথে যাব নয়ত বন্ধুসকল মিলে দল বেঁধে যাব। প্রথমটা কারো সাথে যাওয়া দ্বিতীয়টা একসাথে।

 

α. কারো সাথেঃ ”কারো সাথে” যাওয়ার মত স্বর্গীয় প্রাণী আছে তিন জন। একজন বিয়ে করে বউ দেশে রেখে বিদেশ চলে গেছে। আরেকজন বিদেশ যাওয়ার পথে যেকোনো সময় ইউএস এমব্রেসি থেকে তলব আসবে। শেষেরজন এই শহরে থাকে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায় না।

 

β. একসাথেঃ একসাথে যাওয়ার মত বান্ধব আছে দুইজন। প্রথমজনকে বাসা থেকে বের করা যায় না। দ্বিতীয়জনরে নিয়ে রাস্তায় বের হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

 

সময়ঃ সময় আলোচনা সাপেক্ষ। ঈদের পরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া বছরের অন্য যেকোন সময় হতে পারে। বিচরণকাল একটু বেশি হবে কারণ এক সফরে সেন্টমার্টিনও দেখার ইচ্ছা আছে।

 

‘কারো সাথে’ যাওয়ার চেয়ে ‘একসাথে’ যাওয়া ভালো হবে। ‘একসাথে’ গেলে সংখ্যায় মাত্র তিনজন কম হয়ে যায়। নিকটঅতীতে কীর্তন উপলক্ষে মাইক্রো ভাড়া করে দলবদ্ধ ভ্রমণ বিশেষ উপভোগ্য হয়নি। জানালার সিটে বসলে পাশ দিয়ে অন্য একটা গাড়ি গেলে নাকি ‘ওওওওওওও…’ করে চিৎকার করতে হয়! এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্যের কারণ ভ্রমণার্থীর সংখ্যার আধিক্য। ‘একসাথে’ তিনজনের সমস্যা হল অভিজ্ঞতা নাই। এই তিনজন শূন্য অভিজ্ঞতা নিয়ে যাত্রা করে যাবতীয় প্রহেলিকাচ্ছেদ করতে পারে কিনা দেখার বিষয়…

শব্দজোড়

শব্দজোড়ঃ ছাতিমের গুঁড়া/সাদ্দামের গুঁড়া(বিকৃত অর্থ)।

উপাদানঃ বস্তায়,প্যাকেটজাত খাদ্যশস্যের পাউড়ার/গুঁড়া।

বর্ণনাঃ স্বাধীনের পর রাশিয়া ভাতের বিকল্প খাদ্য হিসেবে বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদান করে। প্রতি পাড়ায় মহল্লায় সরকারের পক্ষ থেকে এটি বিতরণ করা হয়। এতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন রয়েছে যা খেতে চমৎকার আস্বাদবিশিষ্ট।

i see

i do not have any choice

ভালো মানুষ

টাকা সবসময় থাকে না। যখন থাকে যা ভালো লাগে তাই করি,কিনি। যখন থাকেনা তখন আগের সময়টার জন্য আফসোস বোধও করি না। একজন বলেছিল টাকা না থাকলে তার চোখে দুনিয়া সাদা-কালো লাগে। এরকম অর্থ’হীন অবস্থায় তার চোখ দিয়ে দেখার চেষ্টা করেছিলাম। আসলেই সাদা-কালো। এই সাদা-কালো অবস্থায় একটা চিন্তা আসছিল যে যদি আমার কাছে অগণিত টাকা থাকে কেমন হবে?
অগণিত টাকা থাকবে ভালো কথা,টাকাটা আসবে কোত্থেকে?
কোথায় পাওয়া যাবে?

তথ্য সংগ্রহঃ
কিছুদিন পরপর সকালে দুইজন গার্ড একজন কর্মকর্তা একটা গাড়িতে এসে ব্যাংকে টাকা রেখে যায়।
ব্যাংক দোতলায়।
উপরের তিনতলায় একটা আবাসিক হোটেল আছে।

প্ল্যান দুই একটিভঃ
টানা চারদিন ক্রমান্বয়ে সংগ্রহীত যন্ত্রপাতি রুমে স্থানান্তর,প্রাথমিক প্রস্তুতি।

ক্লিক মোরঃব্লকারের ঠিক উপরের রুম টার্গেট করতে হবে।
এর আশেপাশের আরও দুইতিন রুম ভাড়া নিতে হবে।

প্ল্যান গামাঃ
দুইদিনে ছাদ কেটে প্রবেশ করা।
একই দিন।

ইভেন্ট নাইটঃ
ছাদ কেটে দড়ি বেয়ে নিচে নামলাম। মেসে বসে যখন দড়ি দিয়ে মই বানাচ্ছিলাম ফিদা ভাই জিজ্ঞেস করছিলো এইটা দিয়ে কি হবে? উত্তর দেইনি। আমি মিত্থা কথা বলতে পারিনা। তার সাথে এককর বললে তিনি খুঁচিয়ে সব জিজ্ঞেস করতে থাকবেন।তাই চুপ। একবার নতুন একটা গ্লাস কিনে গ্লাসের উপরে কাগজে কস্টেপ মেরে লিখেছিলাম ”এই গ্লাসে কেউ পানি খাবেন না…আদেশক্রমে কতৃপক্ষ”। মেসের কারো দৃষ্টিকটু লাগেনি বরং সেটা নিয়ে একবেলা হাসাহাসিতে কেটে গিয়েছিল।

এই ব্যাংকে দ্বিতীয়বারের মত পা দিলাম। এখন শুধুই বদ্ধ কক্ষে। প্রথমবার দুইপাশে গ্লাসের সারিতে ছোট ছোট টেবিলের মাঝখান দিয়ে হেটেছি। নির্দিষ্ট টেবিলে কিছুক্ষন বসার পর মহিলাটি নাম্বার মিলিয়ে দেখলেন ঠিক আছে এই নাম্বারেই সতেরশ টাকা মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসেছে। কথার উৎপত্তি কি ছিল মনে নেই তিনি খুঁটিয়ে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন কে টাকা পাঠিয়েছে,কেন পাঠিয়েছে,আমি কি করি এসব। যত কম কোথায় উত্তর দেয়া যায় বললাম। একটাও মিথ্যা বলিনি। মনে পড়ে সব শোনার পর তিনি আমার হাতে সতেরশ টাকা দিয়ে বলেছিলেন,”ফিরে যাও”।

ঘোরের মোহে ব্যাগে টাকা ঢুকাচ্ছি। একটা বান্ডেল ফ্লোরে পড়ে গেল। যখন উঠাতে যাব মোহ কেটে গেল। বান্ডেলটা ঠিক ছুঁতে ইচ্ছে করছে না। ব্যাগ রেখে হাঁটু পেতে বান্ডেলের সামনে বসে পড়লাম। আবার ছুঁতে যাব,হাত বাড়িয়েও ফিরিয়ে নিলাম। কিছুক্ষন বান্ডেলটার দিকে তাকিয়ে হেসে উঠলাম…হা হা হা হা। উচ্চস্বরে হাসি।

আমি লিখি কারণ আমি কেন লিখি সেটার কারণ খুঁজে বের করার জন্য। লিখে সন্ধান করি। আমার কাজ সন্ধান করা। বেঁচে থাকার একমাত্র কারণটা খুঁজে বের করা। সকল ভালোই আমার সঙ্গী। তুমি বললে আরও একবার তালা ভাঙব। তালা ভেঙে সাহিত্য গেঁথে দিব। শেষে একটা টাকার বান্ডেলের সামনে বসে পড়ব। সেটা নিয়ে ফিরে আসব না।