Skip to content

ফার্স্ট চান্স

জুলাই 26, 2013

এ দোকান থেকে ও দোকান। এক দোকানের হেল্পার এসে পরোটা ডালের অর্ডার দিয়ে যায়। এ দোকানের হেল্পার স্টিলের একটা ট্রেতে কয়েক মিটার হেটে খাদ্য পৌঁছে দিয়ে যায়। মাঝখানে সিএনজি রিক্সা যাচ্ছে মিনিটে মিনিটে,আরও কিছুক্ষন পর বাস। কারো হাঁচির কণা বা একটু বৃষ্টির ফোঁটা চায়ের কাপে জমা হচ্ছে। আমি দাঁড়িয়ে দেখছি। বামে একটা চা দোকান। যেখানে কয়েকদিন আগে দিন-সারাদিন চলত ‘উল্লালা আই লাভ্যু মাই সোনিয়ে’ সেখানে এখন চলছে তোফাজ্জল হোসেন ভৈরবীর ওয়াজ…’আমার নবী ব্যথায় ব্যথিত হইয়া,মাথা চক্কর খাইয়া উহুদের জমিনে পড়ে গেলে,তারপরও নবীজিকে মারতেছিলো দুনিয়া থেকে বিদায় করে দেওয়ার জন্য। এম্নি সময় হযরতে জিব্রাইল এইভাবে দুইটা হাত বাড়াইয়া আমার আপনার নবীকে কোলে উঠাইছে। তাদের সাম্নে থেকে টান দিয়া সরায়া নিয়া আসছে। উহুদ পাহাড়ের মাঝামাঝি নিচ থেকে দেখা যায় না,এমন একটা জাগায় নিয়ে জিব্রাইল নবীরে কোলে নিয়ে ডাক্তেছে… …জিব্রাইল বলেন এই বলে ডাক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখি লম্বা একটা পাথর ফাইটা তুলার মত নরম বিচানা হইয়া যায়’

ডানে একটা পুরোনো জরাকীর্ণ একটা দোকান। সব দোকান ইট সিমেন্টের চুনকাম করে সামনে সাটার লাগালেও এটাতে ত্রিশ-চল্লিশ বছর আগের ছোট খোপওয়ালা কাঠের দরজা দেখা যাচ্ছে।

অর্শ চিকিৎসালয়।
ডাঃ রইছুদ্দিন (হোমিও প্যাথ)
শিশু,স্ত্রী-পুরুষ,চর্ম,যৌন রোগ,হাঁপানী,অর্শ-ভগন্দর,পিশারী,নাক,কান,গলা সহ সকল প্রকার নতুন ও পুরাতন রোগের চিকিৎসা করা হয়।
বিনা অস্ত্রে চুক্তির মাধ্যমে অর্শ-ভগন্দর ও ফিসারী রোগের চিকিৎসা করা হয়।

স্লামুয়ালাইকুম। সাদা দাড়িওয়ালা বৃদ্ধ ইশারায় সালাম নিয়ে একটা ছেলেকে কি কি ঔষধ বুঝিয়ে দিতে লাগলেন। একটুপর উঠে ভেতরে গিয়ে কয়েকটা বোতল নিয়ে আসলেন। খালি কয়েকটা বোতলে ঔষধি তরল পদার্থ মিশাতে লাগলেন। শেষে ছেলেকে বললেন তিনশত পঞ্চাশ টাকা। ছেলেটি টাকা দিলে বৃদ্ধ টাকা ড্রয়ারে রেখে ভেতরে চলে গেল কৌটাগুলো রাখতে। ছেলেটি চলে যাচ্ছে এমন সময় আমি জিজ্ঞেস করলাম তুমি কি রোগের ঔষধ নিলে। ছেলেটি বলছি বা একটু পরে বলব শ্রেণীর ইঙ্গিত দিয়ে চলে গেল। বৃদ্ধ ভেতর থেকে আসছে এমন সময় দেখলাম পর্দার আড়ালে দুইজন মহিলা বসে আছে।

আপনার কি সমস্যা?
দুর্বল কন্ঠে বললাম,আচ্ছা হুজুর আমি পায়ের একটা আঙ্গুলে ব্যাথা। এই ঔষধ খেলে কাজ হবে কিনা?
হবেনা কেন? ভাঙ্গা আঙ্গুল জোড়া লাগায়া দিব। কিভাবে ভাঙ্গছে?
হুজুর আঙ্গুল ভাঙ্গে নাই। ফুটবল খেলতে গিয়ে শুধু ব্যাথা পাইসি। ছয় মাস আগে এখনো ফোলা কমেনি।
এদ্দিন কই আছিলেন? আঙ্গুল দেখি

বৃদ্ধ আবার ভেতরে গিয়ে তরলপূর্ণ একটা বোতল নিয়ে আসলেন। আরেকটা ছোট খালি কৌটায় তরল পদার্থ ঢেলে পূর্ণ করলেন। একটা পাইপারে কিছুটা তরল নিয়ে বললেন হাঁ করতে বললেন। আমি হাঁ করলে অর্ধেকপূর্ণ করে পাইপারের তরল আমার মুখে ঢেলে দিলেন। ঝাঁঝালো স্বাদ। মনে হয় ইস্পিরিটের মত।

ইফতারের পর থেকে সেহরির আগে চাইর বার খাইবেন।
হুজুর তরল দিলেন! সাদা গোঁটা গোঁটা ওইগুলা নাই?
আপনারে দিছি ফুলা কমার ফাইল। না লাগলে গোঁটা দিমু ক্যান?

আশি টাকা দেন।

পকেট থেকে একটা একশত টাকার নোট বের করে দিলাম। তিনি বিশ টাকা ফেরত দিলেন। এতক্ষন বুড়ার সাথে কথা বলছি ফাঁকে ফাঁকে বাম পাশের একটা তাঁকে কাতারে কাতারে সাজানো পুরোনো বইগুলা দেখছিলাম। দোকানের বাইরে থেকে বইগুলার উপর চোখ পড়ছিলো। এজন্যই ভিতরে আসা। যদি রোগের জন্য আসতাম এই শিশিটা বিশ টাকায়ও নিতাম না। এখন উদ্দেশ্য ভিন্ন।

আচ্ছা হুজুর আমি যদি আপনার হোমিওপ্যাথি শিখতে চাই কিভাবে শিখতে হবে?
কিভাবে শিখবেন আবার? পড়ালেখা করে শিখবেন।
মানে আপনি কি শিখান নাকি অন্য কোথাও কোর্স করতে হবে?
আমিও শিখাইতে পারি। আইচ্ছা আপনে অবসর সময়ে আইসেন। কথা হবে।
আচ্ছা ঠিক আছে। স্লামুয়ালাইকুম।

ভেতর থেকে একটা বোরকাওয়ালী মহিলা উঁকি দিল। হুজুর সালামের উত্তর দিল কিনা শুনিনি,উল্টো ফিরে রাস্তার দিকে হাঁটা দিলাম।

Advertisements
মন্তব্য করুন

কিছু বলেন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: