Skip to content

ভালো মানুষ

মে 24, 2013

টাকা সবসময় থাকে না। যখন থাকে যা ভালো লাগে তাই করি,কিনি। যখন থাকেনা তখন আগের সময়টার জন্য আফসোস বোধও করি না। একজন বলেছিল টাকা না থাকলে তার চোখে দুনিয়া সাদা-কালো লাগে। এরকম অর্থ’হীন অবস্থায় তার চোখ দিয়ে দেখার চেষ্টা করেছিলাম। আসলেই সাদা-কালো। এই সাদা-কালো অবস্থায় একটা চিন্তা আসছিল যে যদি আমার কাছে অগণিত টাকা থাকে কেমন হবে?
অগণিত টাকা থাকবে ভালো কথা,টাকাটা আসবে কোত্থেকে?
কোথায় পাওয়া যাবে?

তথ্য সংগ্রহঃ
কিছুদিন পরপর সকালে দুইজন গার্ড একজন কর্মকর্তা একটা গাড়িতে এসে ব্যাংকে টাকা রেখে যায়।
ব্যাংক দোতলায়।
উপরের তিনতলায় একটা আবাসিক হোটেল আছে।

প্ল্যান দুই একটিভঃ
টানা চারদিন ক্রমান্বয়ে সংগ্রহীত যন্ত্রপাতি রুমে স্থানান্তর,প্রাথমিক প্রস্তুতি।

ক্লিক মোরঃব্লকারের ঠিক উপরের রুম টার্গেট করতে হবে।
এর আশেপাশের আরও দুইতিন রুম ভাড়া নিতে হবে।

প্ল্যান গামাঃ
দুইদিনে ছাদ কেটে প্রবেশ করা।
একই দিন।

ইভেন্ট নাইটঃ
ছাদ কেটে দড়ি বেয়ে নিচে নামলাম। মেসে বসে যখন দড়ি দিয়ে মই বানাচ্ছিলাম ফিদা ভাই জিজ্ঞেস করছিলো এইটা দিয়ে কি হবে? উত্তর দেইনি। আমি মিত্থা কথা বলতে পারিনা। তার সাথে এককর বললে তিনি খুঁচিয়ে সব জিজ্ঞেস করতে থাকবেন।তাই চুপ। একবার নতুন একটা গ্লাস কিনে গ্লাসের উপরে কাগজে কস্টেপ মেরে লিখেছিলাম ”এই গ্লাসে কেউ পানি খাবেন না…আদেশক্রমে কতৃপক্ষ”। মেসের কারো দৃষ্টিকটু লাগেনি বরং সেটা নিয়ে একবেলা হাসাহাসিতে কেটে গিয়েছিল।

এই ব্যাংকে দ্বিতীয়বারের মত পা দিলাম। এখন শুধুই বদ্ধ কক্ষে। প্রথমবার দুইপাশে গ্লাসের সারিতে ছোট ছোট টেবিলের মাঝখান দিয়ে হেটেছি। নির্দিষ্ট টেবিলে কিছুক্ষন বসার পর মহিলাটি নাম্বার মিলিয়ে দেখলেন ঠিক আছে এই নাম্বারেই সতেরশ টাকা মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসেছে। কথার উৎপত্তি কি ছিল মনে নেই তিনি খুঁটিয়ে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন কে টাকা পাঠিয়েছে,কেন পাঠিয়েছে,আমি কি করি এসব। যত কম কোথায় উত্তর দেয়া যায় বললাম। একটাও মিথ্যা বলিনি। মনে পড়ে সব শোনার পর তিনি আমার হাতে সতেরশ টাকা দিয়ে বলেছিলেন,”ফিরে যাও”।

ঘোরের মোহে ব্যাগে টাকা ঢুকাচ্ছি। একটা বান্ডেল ফ্লোরে পড়ে গেল। যখন উঠাতে যাব মোহ কেটে গেল। বান্ডেলটা ঠিক ছুঁতে ইচ্ছে করছে না। ব্যাগ রেখে হাঁটু পেতে বান্ডেলের সামনে বসে পড়লাম। আবার ছুঁতে যাব,হাত বাড়িয়েও ফিরিয়ে নিলাম। কিছুক্ষন বান্ডেলটার দিকে তাকিয়ে হেসে উঠলাম…হা হা হা হা। উচ্চস্বরে হাসি।

আমি লিখি কারণ আমি কেন লিখি সেটার কারণ খুঁজে বের করার জন্য। লিখে সন্ধান করি। আমার কাজ সন্ধান করা। বেঁচে থাকার একমাত্র কারণটা খুঁজে বের করা। সকল ভালোই আমার সঙ্গী। তুমি বললে আরও একবার তালা ভাঙব। তালা ভেঙে সাহিত্য গেঁথে দিব। শেষে একটা টাকার বান্ডেলের সামনে বসে পড়ব। সেটা নিয়ে ফিরে আসব না।

Advertisements
মন্তব্য করুন

কিছু বলেন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: