Skip to content

মাইক্রোফোন টেস্টিং…

মার্চ 27, 2013

গণভবনে (পুরনো) নয়,বত্রিশ নম্বরে বসে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীর ডিকটেসন নেওয়া আমি পছন্দ করতাম। দুপুরে খাওয়ার পর বিশ্রামের সময়টাই ছিল বঙ্গবন্ধুর ডিকটেসন দেওয়ার প্রাত্যহিক টাইম। কিন্তু বিশ্রাম তাঁর কপালে ছিল না। ওই বিশ্রামের সময়েও গণভবনে তাঁর শয়নকক্ষে এসে লোকজন ঢুকতেন। ফলে আমার শ্রুত লিখনের কাজে প্রায়ই বাধা পড়তো। দুপুরের এই সময়টিতে কখনো এসে হাজির হতেন জেনারেল ওসমানী, কখনো কোনো যুব ছাত্রনেতা, আসতেন কালো চশমায় চোখ ঢেকে জেনারেল জিয়াউর রহমান (তখন সম্ভবত মেজর জেনারেল হন নি)। মাঝে মাঝে একান্তে পেলে তিনি বলতেন, ”শুনেছি, বঙ্গবন্ধু আত্মজীবনী লিখছেন। আপনি সাহায্য করছেন। তাঁকে দয়া করে আমার কথাটা মনে করিয়ে দেবেন। বলবেন,চাটগাঁ বেতারে আমিই তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলাম। আমার কথাটা বঙ্গবন্ধু যেন তাঁর আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেন”

কয়েকবার অনুরদ্ধ হয়ে আমি একদিন তার উপর ক্ষেপে গিয়েছিলাম। বলেছিলাম, দেখুন জিয়া সাহেব, এই আত্মজীবনী আমার নয়, বঙ্গবন্ধুর। তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন, কার নাম তিনি তাঁর লেখায় উল্লেখ করবেন, কার নাম করবেন না। আপনি যদি নিজের নাম সেখানে দেখতে চান, তাহলে নিজেই বংগবন্ধুকে অনুরোধটা জানান না কেন?

আমার জবাব শুনে জিয়াউর রহমানের কারো চেহারা আরও কালো বর্ণ হয়ে গিয়েছিল।

ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা, আবদুল গফফার চৌধুরী

Advertisements
মন্তব্য করুন

কিছু বলেন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: