Skip to content

হ্যালুসিনেশান!

ডিসেম্বর 23, 2012

সিনেমা দেখার অনেক কারন থাকতে পারে। আমজনতার সবচেয়ে বড় কারনটা হল বিনোদন। বিনোদনের ব্যকগ্রাউন্ডে এই বিশাল গোষ্ঠী। ডিরেক্টর কিছুতেই আমজনতার টান উপেক্ষা করতে চায় না। একেকটা শর্ট হতে পারে কিংবা পারত কালজয়ী মুহুর্ত। কিন্তু বাস্তবতা হল তারা সেটাকে স্বহস্তে কবর দেয় আমজনতার আকর্ষনে। চ্যানেল ঘুরাইতেও তামিল,তেলেগু মুভি চোখে পড়ে। এক ঘুষিতে ১০ ফুট উপ্রে উঠার দৃশ্য নিশ্চয়ই বিনোদন ছাড়া আর কিছু দিতে পারে না। আমি যে আরও কিছু আশা করি।

ইন্ডিয়া ফেরত রমণী আমারে এক প্যাকেট কপি চকলেট,৬ টা কিটক্যাট,১ টা বড়ি স্প্রে,১ টা সেন্ট দিল। সাথে একটা পেনড্রাইভ।

কপি চকলেট ১ প্যাকেটঃ এই প্যাকেটে কয়টা জানিনা। হাঁটতে হাঁটতে চকলেট খাই আড্ডায় চকলেট বিলাই। বলিউডের বাপ্পারাজ খ্যাত ব্যর্থ প্রেমিক প্লেবয় সালমান সিগারেট ছাড়তে চকলেট খাচ্ছে সেটা বিনোদন নিউজ হলে এইটা শিগ্রই চলে আসবে অর্থ ও বানিজ্য পাতায়।

৬ টা কিটক্যাটঃ প্রথম ১ ঘন্টায় ৬ টা কিটক্যাট শেষ।

স্প্রে ও সেন্টঃ সেন্ট বড়ি-স্প্রে ব্যবহার করিনা,ব্যবহারের প্রয়োজনের হয়নি অতীতে। গিফটের জিনিস না হইলে বিক্রি করে দিতাম। এখন এগুলা নিয়ে জাতি কি করবে সারা যাকের?

এতকিছু পাইলাম এবার আমার কাজ হইল এই পেনড্রাইভে মুভি লোড করে দিতে হবে। পেনড্রাইভ স্ক্যান করে ভিত্রে দেখি ৬৯১ মেগাবাইটের একটা মুভি। নাম ‘আরিয়া ২’। হাতে এতই সময় ছিল যে সময় হারানোর ভয় নাই তাই সময় খুছিয়ে মুভি লাগাই দিলাম। ভাষাটা ভালোভাবে খেয়াল করলাম। কয়েকটা ছবি দেখেছি তেলেগু যেমন মাছ(হিন্দি ডাবিং মেরি জাং-ওয়ান ম্যান আর্মি),ডন(ডন নং ওয়ান)। নিশ্চিত হইলাম এইটা তেলেগু মুভি। শুরুর দিকে দৃশ্যায়ন আবেগময়। দুই বন্ধুর বিচ্ছেদ। প্লেস ছিল নজরকাড়া। নায়কের প্রথম একশান দেখেই বুঝলাম আমি এখন আমপাবলিক। বিনোদন ছাড়া আর কিছু আশা করতে পারিনা। যেহেতু শুরু দেখে ফেললাম সেহেতু শেষ না করে উঠতে পারিনা। মাঝখানে কাহিনী ২ বছর আগের জাব উই মিট এর কাছাকাছি গেছে। আর প্লেবয় সালমানের দিঙ্কা চিকা এই মুভি থেকে কপি করছে।

dice
সাধরনত তামিল,তেলেগু নায়কদের মুখে মোঁছ দেখা যায়। এই নায়কের মুখে মোঁছ নেই তবে তার একটা মাছ আছে যেটা হাত পাতলে তার হাতে লাফ দিয়ে উঠে আসে কিংবা মাছটা এক লম্ফে মুখের উপর উঠে বসে।

dice3
ওয়াও! এই নায়িকার চোখ দুইটা বড়ই সুন্দরী। আমার অবশ্যই তাকে বিবাহ করা উচিৎ। লাইনে আসি। তামিল,তেলেগু মুভির দর্শনীয় বিষয় হল নায়িকা। এই মুভি গুলাতে পরিচালকগণ কইত্তে ধরে ধরে সুন্দরী নিয়ে আসে। যেহেতু আমি এখন আমজনতা তাই নায়িকা দেখে গুগল লাগাইতে হবে।

npdshot
আমলোগ শীতের রাইতে গরম হইতে আগুন খোঁজ লাগায় কিন্তু নায়িকার উচ্চতা দিয়া কি কাম?

dice2
কিছুক্ষন আগে ফাইট দিয়া নায়কের চরিত্রের সাথে চুল গুলাও সোজা হয়ে গেছে। এখন তাই তাকে ডাকলে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ডিয়ার নায়িকা,মতিকন্ঠ পড়ে লাইনে আসুন।

dice4
মুভির একশান শর্ট ঝাকানাকা। মানুষরে এইটা টানে। তারা সবসময় সুপারহিরো পছন্দ করবে কারন সে নিজে তা নয়। এই ফাইটটা থাকে ইভটিজিং এর শাস্তি। নায়ক টিজারদের সায়েস্তা করে। রিয়েলিটিতে নায়ক নামের পোলাটা প্রতিরোধে ব্যর্থ। রূপালী পর্দায় উপজীব্য হল বাস্তবতার অক্ষমতা।

dice6
নায়ক মুনওয়াক পারে!

dice7
সুইমিংফুলে ব্যাঙ কইত্তে আইল! আসছে ভাল কথা উপ্রে আসতে কে কইছে! উপ্রে আসছ তাই বলে নায়িকারে ভয় দেখালি ক্যান?

dice8
নায়িকারে ভয় দেখানোর শাস্তি পরিচালক ব্যাঙটারে জেলে পুরে দিল।

dice8
তেলেগু ছবির দিলদার।

dice9
অভিবাবক দাদা,ব্যাকগ্রাউন্ডে দাদী গৌন। কিংবা পিতা হলে মা থাকে ব্যাকগ্রাউন্ডে। আবুল হায়াতের একটা ছবিতে দেখছিলাম নায়িকার মা’রে ঝাড়ি দিল,’তুমি চুপ কর’। অনবদ্য টেক। সিনেমা অফলাইনরে তুলে ধরতে পারে। আমলোগ দেখুক ডায়ালগটা তার নিজের।

dice11
বৈজ্ঞানিক সমস্যা…এটা নায়কের ভিড্যু ক্যামেরা। ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে ৭৫ মিনিট এবং রেকর্ডিং হল ৫৮ সেকেন্ড।

dice12
৬ সেকেন্ড পর অর্থ্যাত ১ মিনিট ৪ সেকেন্ডে ব্যাটারিতে থাকল ৬৫ মিনিট। ৬ সেকেন্ডে ১০ মিনিটের ব্যাটারি শ্যাষ! ডিরেক্টর দুই শর্টে ১০ মিনিটের ব্যাট্যারি খেয়ে দিল। ক্যামেরার ১০ মিনিট শুট্যিং এর ১০ মিনিট না। এই দশ মিনিট ক্যামেরা ব্যবহার করা হইছে।

dice13
চোখ দেখে নায়িকার প্রেমে পড়েছি। বালিকে তোমায় বিবাহ করে আমি তোমার বাড়ি যাব। তুমি শীতের রাতে মশারী টাঙিয়ে রাখিও।

dice14
আমআদমী বেশি লুল হওন ঠিকনা। নায়িকা সে তো নায়কের সম্পত্তি। যেথায় দেখা তুমি হারিয়ে গেলে। কেন তুমি এসেছিলে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট নিয়ে? কেনইবা মেসেজ দিলে? বালিকে তুমি অপরাধী নও। এটা তো তোমার ধর্মচারণ।

dice15
শুভকাজ সম্পন্ন। নায়ক বসে বিয়ের ভিড্যু দেখতেছে। বাই দ্য ওয়ে বিয়েতে কণের পায়ের আঙ্গুলে বর আঙ্গুল রাখে এটা তো আগে দেখিনি! অনেক দেশে অনেক রীতি! আরেকটা পয়েন্ট আমার মনে হয় এই পা’টাও নায়কের না। নায়ক শ্যামলা সে হিসেবে পা থাকবে মুখ থেকে আরও কালো। রেটিং= 1111111111

হ্যালুসিনেশানঃ পকেটের টাকার কমতি ছিল না বলে একদিন দুপুরে বিরয়ানীর অর্ডার দিলাম। দামী হোটেলের ওয়ানটাইম সাবান কাষ্ঠ হাত সহ্য করতে পারেনি বলে পড়ে গেল। প্লেটে সিদ্ধ ডিমটা সেই সাবানের মত। স্কিৎসোফ্রেনিয়া! সিদ্ধডিম খেতে পারব না। ২০ টাকা বাড়তিতে সিদ্ধডিম চেঞ্জ করে অমলেট দিবে। হোক। একদিনের বৈরাগি ভাতেরে বানাই বিরয়ানী। চামচ দুইটা দুই পাশে রেখে হাত দিয়ে খাওয়া শুরু করলাম। চামচের কথা ভাবছি। আরেকটা দুপুরে নিশ্চয়ই কোন যুগল এই চামচের ব্যবহার করবে। তরুণীটি বলবে,’এই আমার প্লেটের এক চামচ খাও না! আমি চামচে মুখ লাগিয়েছি কিন্তু!’ বলেই একসাথে চাপা হাসি। নাহ! তারা পবিত্র থাকুক।
চিন্তায় চ্ছেদ পড়ল টিভির সাউন্ডে। ডান পাশে উপরে সেট করা একটা টিভি। টিভিটা দেখিনি এখন শব্দ শুনে অবস্থান নির্ধারন করলাম। খেতে খেতে টিভি দেখা যাতে পারে। ভাবছি তাকাব। কিন্তু ওদিকে দৃষ্টি দিতে সংকোচ বোধ করছি। বিরয়ানী খেতে খেতে টিভি দেখা কি অভদ্রতা হবে! তাহলে টিভিটা এখানে দেয়া হল কেন! একটা মুভি চলছে বুঝতে পারছি। অনুমান করলাম তামিল ছবি হিন্দিতে ডাবিং করা। কথা শুনে সেরকমই মনে হল। নায়িকার মোবাইলে মেসেজ আসার শব্দ। আবার নায়িকা একটু পর দেখে ‘ইনবক্স এম্পটি’! আবার কি হল বুঝতে পারছিনা শব্দ শ্রবণে। আবার বুঝতে পারছি নায়িকা নায়ককে একটা রুমে আটকে ফেলল। এরপর সে তার বন্ধুদের বাসায় ডাকল। বন্ধুরা এসে কিছু বলল না। একটু পর একজন নায়ককে জাগাল ঘুম থেকে। অভিবাবক শ্রেণীর বলল,’আরিয়া,গীতা তোমার ফ্ল্যাটে কি করছে’! নায়িকা বোকা বনে গেল এবং সেই লোকটি উচ্চস্বরে বলে উঠল,হ্যালুসিনেশান!

ইন্ডিয়া থেকে নতুন একটা ল্যাপটপ কিনে এনেছে। আমাকে পেনড্রাইব দিল মুভি লোড করে দিতে। পেনড্রাইব চেক করে দেখি ৬৯১ মেগাবাইটের একটা ফাইল। ক্লিক করলাম…হ্যালুসিনেশান!

১২টি মন্তব্য

১. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৮:৩১

মাক্স বলেছেন: যারা এই সিনেমা দেখে নাই তাদের বুঝতে যথেষ্ট প্রবলেম হবে।

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৮:৩৯

লেখক বলেছেন: সত্য। প্রচলিত স্যাটায়ার কিংবা সিরিয়ার রিভিউ থেকে ভিন্ন স্টাইলে লিখেছি। নাম পুরুষের ব্যক্তিগত রহস্যময়তা আছে…

২. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৮:৪৭

মাক্স বলেছেন: লেথা কিন্তু ভালো হৈছে। পড়তে ভাল্লাগছে ++++

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৮:৫২

লেখক বলেছেন: ভাল লাগল

৩. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৮:৫৬

দূর্যোধন বলেছেন: ভালোই লাগলো । তবে তেলগু ফিল্মের নায়িকা গুলা কেমন যেন :|

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৯:৩৯

লেখক বলেছেন: কেমন যেন… B:-)

৪. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৮:৫৭

গ্রাম্যবালিকা বলেছেন: মুভিটা দেখেছি, হিন্দি ডাবিং।আমি এত কিছু বুঝিনা, আমার ভালো লেগেছে। মেয়েটা কিউট। ছেলেটার অভিনয় ভালো ছিল।

স্কিৎসোফ্রেনিয়া মানে জানিনা, বলবেন কি?

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৯:৩৭

লেখক বলেছেন: স্কিৎসোফ্রেনিয়া শব্দটি মানুষ মারামারি আর অস্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে সমার্থক মনে করে। মিডিয়া প্রায়ই এই অর্থে স্কিৎসোফ্রেনিয়া শব্দটি ব্যবহার করে, যদিও এটা ভুল এবং অন্যায়। আমরা স্কিৎসোফ্রেনিয়া শব্দটি ব্যবহার করি কারণ এই মুহুর্তে এর কোনো ভাল প্রতিশব্দ নেই যাতে এই ধরনের উপসর্গ আর আচরণের বর্ণনা দেওয়া যেতে পারে।
স্কিৎসোফ্রেনিয়া শব্দটি আপনার খারাপ লাগলেও আশাকরি এ সম্বন্ধে জানবার জন্য এই পুস্তিকাটি আপনাকে সাহায্য করবে। এই লিঙ্কে এগুলো লেখা আছে

৫. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১০:২৮

স্বপনবাজ বলেছেন: ভালো তো ! নিখাদ বিনুদুন !

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১০:৩৬

লেখক বলেছেন: :D
Advertisements
One Comment
  1. একটি কাল্পনিক প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতেঃ

    ১। আমজনতা পোস্টটির নাম পুরুষ নয়।
    ২। নাম পুরুষ পোস্টটির লেখক নয়। লেখক এটি লিখেছেন তার মানে এই নয় এটি তার ব্যক্তি কথন
    ৩। যে চরিত্রটি নায়িকাকে বিয়ে করার ইচ্ছে পোষণ করে সেটি বাস্তবতার আমজনতাই। যারা হলে একটা কিসের দৃশ্য দেখে হৈহৈ করে চিইল্লাতে থাকে কিংবা ফ্লিম থেমে গেলে চেয়ার ভাঙ্গে।
    ৪। এটা রিয়েলিস্টিক স্ট্যাটায়ার বলা যেতে পারে।
    ৫। লেখক নিজে জড়িত নয়,যে হ্যালুসিনেশান ঘটে সেটা লেখকের নয় বরং ঐ চরিত্রটির।
    ৬। বিয়ে করার ইচ্ছে লেখক পোষণ করেননি।

কিছু বলেন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: