Skip to content

god play dice

ডিসেম্বর 3, 2010

মহাকর্ষের ফলে চুপসে গিয়ে যখন কৃষ্ঞগহ্বর সৃষ্টি হয় তখন সেটা দ্রুত একটা সুস্থিত অবস্থায় স্থিতি লাভ করে…এই অবস্থায় বৈশিষ্ট্য শুধুমাত্র তিনটি স্থিতিমাপ-ভর,কৌণিক ভরবেগ এবং বৈদ্যুতিক আধান…এই তিনটি ধর্ম ছাড়া যে বস্তুগুলি চুপসে গিয়েছে তার অন্য কোনও বিস্তৃত বিবরণ কৃষ্ঞগহ্বর রক্ষা করে না…এই সিদ্ধান্ত ‘একটা কৃষ্ঞগহ্বরের লোম নেই’ নামক উপপাদ্য দিয়ে পরিচিত…লোমহীনতা উপপাদ্যের নিতিতার্থ:মহাকর্ষের ফলে চুপসে যাওয়ার সময় বিরাট পরিমান সংবাদ হারিয়ে যায়

প্রথমত ধারনা করা হয়েছিল কৃষ্ঞগহ্বর কিছু উত্‍সর্জন করতে পারেনা…দেখা গেল কৃষ্ঞগহ্বর স্থির হারে কণিকা উত্‍সর্জন করে…যে কণিকা নির্গত হয় তার বর্ণালী নির্ভুলভাবে তাপীয়….কৃষ্ঞগহ্বর সাধরনত তপ্তপিন্ডের মত কণিকা সৃষ্টি করে এবং উত্‍সর্জন করে…তার তাপমাত্রা পৃষ্ঠ মহাকর্ষের আনুপাতিক এবং ভরের ব্যস্ত আনুপাতিক…এখানে বেকেনস্টাইনের অভিভাবন কৃষ্ঞগহ্বরের সান্ত এনট্রপি আছে যা সম্পূর্ণ সামন্জ্ঞস্যপূর্ণ হয়ে যায়…তার কারন এর নিতিতার্থ হল কৃষ্ঞগহ্বর শূণ্য ছাড়া কোন একটা সান্ত তাপমাত্রায় সুস্থিতি লাভ করতে পারে

কৃষ্ঞগহ্বরগুলো তাপীয় উত্‍সর্জন করতে পারে এটি গানিতিকভাবেই প্রমানিত…উত্‍সর্জন বোঝার একটি উপায় কণাবাদী বলবিদ্যার নিতিতার্থ অনুসারে সমগ্র স্থান(space)কণিকা এবং বিপরীত কণিকার জোড় পুর্ণ…সবসময়ই তারা জোড়ে জোড়ে সৃষ্ট হচ্ছে,পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে আবার নিকটবর্তী হচ্ছে এবং পরস্পরকে বিনাশ করছে…এই কণিকাগুলোকে কল্পিত কণিকা বলা হল কেননা বাস্তব কণিকাগুলোর মত এগুলোকে কণিকা পার্টিকেল ডিরেক্টর দিয়ে প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষন করা যায় না…কৃষ্ঞগহ্বরের উপস্থিতিতে একজোড়া কল্পিত কণিকার একটি কৃষ্ঞগহ্বরে পতিত হতে পারে-ফলে জোড়ের অন্যটির বিনাশপ্রাপ্ত হওয়ার মতো অংশীদার থাকে না…পরিত্যক্ত কণিকা কিংবা বিপরীত কণিকা তার জোড় কৃষ্ঞগহ্বরে পতিত হওয়ার পর নিজেও কৃষ্ঞগহ্বরে পড়তে পারে তবে সেটা ছাড়া পেয়ে অসীমে গমন করতে পারে…সেখানে তাদের মনে হবে কৃষ্ঞগহ্বর থেকে উত্‍সর্জন করা বিকিরণ…চিরায়ত বলবিদ্যা কৃষ্ঞগহ্বরের ভেতর থেকে নিষ্ক্রমন অনুমোদন করেনা কিন্তু কণাবাদী বলবিদ্যা অনুমোদন করে…কণাবাদী বলবিদ্যার নীতি অনুসারে কণিকাগুলো সুড়ঙ্গপথে(tunnel through)যেতে পারে

কৃষ্ঞগহ্বর উবে যাওয়া শেষ অবস্থায় এত দ্রুত হবে যে,এর অন্ত হবে একটা ভয়াবহ বিষ্পোরণে…এই বিষ্পোরণ কতটা শক্তিশালী হবে সেটা নির্ভর করবে কতরকম মৌলকণা এর ভিতরে আছে তার উপর

যে পদার্থ চুপসে গিয়ে কৃষ্ঞগহ্বর তৈরি হয়েছিল তার যদি সব কেটেছেঁটে অবশিষ্ট কোনও বৈদ্যুতিক আধান থাকে তাহলে ফলস্বরূপ যে কৃষ্ঞগহ্বর সৃষ্টি হল সে কৃষ্ঞগহ্বরও ঐ বৈদ্যুতিক আধান বহন করবে…এর অর্থ হল কৃষ্ঞগহ্বর চেষ্টা করবে কল্পিত বৃহত্‍ কণিকার যে জোড়গুলির বিপরীত আধান থাকবে সেগুলিকে আকর্ষণ করতে এবং যেগুলির আধান সমরূপ সেগুলোকে বিকর্ষণ করতে…ব্যারিয়ন সংখ্যা(baryon number)নামাঙ্কিত কণাবাদী ধর্মের সঙ্গে জড়িত কোন দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেত্র নেই…সেজন্য কিছু ব্যারিয়ন চুপসে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট কৃষ্ঞগহ্বর তার ব্যারিয়ন সংখ্যা ভুলে যাবে এবং সমপরিমান ব্যারিয়ন এবং বিপরীত ব্যারিয়ন বিকিরণ করবে সুতরাং কৃষ্ঞগহ্বরটি যখন অদৃশ্য হল তখন কণিকা পদার্থবিদ্যার সবচাইতে আকাঙ্খিত বিধিগুলোর একটাকে ভঙ্গ করে…এই বিধির নাম ব্যারিয়ন সংরক্ষন বিধি(law of barion conservation)

কৃষ্ঞগহ্বরের একটা সসীম এনট্রপি আছে-বেকেনস্টাইনের প্রকল্পে সামন্জ্ঞস্যের জন্য যদিও কৃষ্ঞগহ্বরগুলির তাপীয় বিকিরণ প্রয়োজন কিন্তু হয়,কণিকা সৃষ্টির বিস্তৃত কণাবাদী বলবিদ্যাভিত্তিক গণনায় তাপীয় বর্ণালী সমান্বিত একটা উত্‍সর্জন সৃষ্টি করবে…এটা একটা অলৌকিক ব্যাপার বলে মনে হয়

কৃষ্ঞগহ্বর থেকে উত্‍সর্জনের কণাবাদী বলবিদ্যার সঙ্গে সাধরনত জড়িত অনিশ্চয়তা কিংবা ভবিষ্যতবাণী করার অক্ষমতার চাইতেও একটু বেশি অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যতবাণী করার অক্ষমতা থাকবে…অনিশ্চয়তার নীতিতে অবস্থান এবং গতিবেগের একটা সমন্বয়ের মাপনফল সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী করতে পারেন অর্থ্যাত্‍ পর্যবেক্ষকের নিশ্চিত ভবিষ্যতবাণী করার সামর্থ্য অর্ধেক হয়ে যায়…কৃষ্ঞগহ্বরে পরিস্থিতি আরও খারাপ…যেহেতু কৃষ্ঞগহ্বরের কণাগুলো এমন অন্ঞল থেকে আসে,সে সম্পর্কে পর্যবেক্ষকের জ্ঞান সীমিত,সেজন্য তিনি নির্দিষ্ট ও নিশ্চিতভাবে একটা কণিকার গতিবেগ কিংবা অবস্থান সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী করতে পারেন না কিংবা পারেন না এ দুটির সমন্বয় সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী করতে…তিনি শুধু পারেন কতগুলো কণিকা নির্গত হবে তার সম্ভাব্যতা সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী করতে…সেজন্য বলা যায় আইনস্টাইন যখন বলেছিলেন “ঈশ্বর জুয়া খেলেন না” তখন তার ভুল হয়েছিল দ্বিগুণ…কৃষ্ঞগহ্বর থেকে উত্‍সর্জিত কণিকাগুলি বিচার করলে মনে হবে ঈশ্বর শুধু জুয়া খেলেন তাই নয়,অনেক সময় জুয়ার ঘুঁটিগুলি এমন জায়গায় নিক্ষেপ করেন যে সেগুলিকে আর দেখতে পাওয়া যায়না

Advertisements
মন্তব্য করুন

কিছু বলেন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: